পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়ায় আলোচিত আবু তাহের হত্যা মামলার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মামলার তদন্তের অগ্রগতি এবং আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও তদন্তের গতি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের ২৬ জুন শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের হারুন মাতবরপাড়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন আবু তাহের (৬৫)। অভিযোগ রয়েছে, সেদিন তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলার এজাহার ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, আবু তাহেরের পুত্রবধূ এবং মালয়েশিয়াপ্রবাসী মো. কাইছারের স্ত্রী তৈয়বা বেগমকে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন বখাটে উত্যক্ত করছিল। বিষয়টি নিয়ে সামাজিকভাবে বিচার-সালিশও অনুষ্ঠিত হয় এবং অভিযুক্তদের সতর্ক করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন রাতে ওই উত্যক্তের জের ধরে বখাটেরা আবু তাহেরের বাড়িতে ঢিল নিক্ষেপ করে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বাড়ির বাইরে বের হয়ে প্রতিবাদ করলে পুরাতন বহদ্দারপাড়ার নুরুল হোছাইনের ছেলে মোহাম্মদ সিফাত, হারুন মাতবরপাড়ার মৃত উলা মিয়ার ছেলে নাজেম উদ্দিন, শাহ আলমের ছেলে মোহাম্মদ বাহাদুরসহ অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিনজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার দুই দিন পর, ২৮ জুন পেকুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ২৫/১০৯-২৬। নিহতের কনিষ্ঠ পুত্র মো. তারেক (২৫) বাদী হয়ে মোহাম্মদ সিফাত, নাজেম উদ্দিন ও মোহাম্মদ বাহাদুরকে এজাহারভুক্ত আসামি এবং আরও দুই থেকে তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে উল্লেখ করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন পেকুয়া থানার এসআই মো. সাজ্জাদ।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের তিন সপ্তাহ পার হলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নিহতের পরিবার। বুধবার (১৫ জুলাই) আবু তাহের হত্যা মামলার দ্রুত বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পেকুয়ায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নেন নিহতের স্বজনরা। সেখানে তারা ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরে দ্রুত বিচার দাবি করেন।

মামলার বাদী ও নিহতের ছেলে মো. তারেক বলেন, “আমি মামলার অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট নই। তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আমরা পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছি।”

নিহতের পুত্রবধূ তৈয়বা বেগম বলেন, “আমার স্বামী বিদেশে থাকেন। আমাকে দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত করা হতো। বিষয়টি নিয়ে আমি বিচারও দিয়েছিলাম। ঘটনার দিন তারা আমাদের বাড়িতে ঢিল ছোড়ে। মূলত এরই জেরে আমার শ্বশুরকে হত্যা করা হয়েছে।”

নিহতের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম বলেন, “আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমার স্বামীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।”

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পেকুয়া থানার এসআই মো. সাজ্জাদ বলেন, “আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে কৌশলগত কারণে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।”